বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৯:২১ অপরাহ্ন
শিরোনাম:
Logo পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদকসহ গ্রেপ্তার ২৫ Logo বুড়িচংয়ে আগুনে পুড়ে মরলো শেকলবন্দী কলেজছাত্র Logo যে সাত কারণে ইভ্যালি ধ্বংসের মুখে Logo চৌদ্দগ্রামে মাদক ও সাজাপ্রাপ্ত আসামীসহ গ্রেপ্তার ৫ Logo এবার ধানমন্ডি থানার মামলায় রাসেল রিমান্ডে, শামীমা কারাগারে Logo কুমিল্লা-৭ আসনে বিজয়ী ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত Logo এবার নিজেদের নেতৃত্বে আন্দোলন-নির্বাচনের ছক কষছে বিএনপি Logo পরীক্ষায় ফেল করলে বিয়ে করা যাবে না, সরকারি নিয়ম Logo চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি রিপনকে রোটারি ক্লাব অব কুমিল্লা ফেমাসের সংবর্ধনা Logo চৌদ্দগ্রামে আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল মজুমদারের ইন্তেকাল Logo বিনামূল্যে পাটবীজ, সার ও নগদ অর্থ বিতরণ Logo কুমিল্লা- ৭ উপ-নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন ডা. প্রাণ গোপাল দত্ত Logo কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় এসএসসি পরীক্ষার্থী আহত Logo আজ প্রফেসর ড. মোঃ আবদুল কুদ্দুসের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী Logo চৌদ্দগ্রামে প্রেমিক যুগলের আত্মহত্যার চেষ্টা Logo ফারিয়ার মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত Logo Logo নিউজিল্যান্ডকে হারিয়ে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক বিজয়

ডেল্টায় বড় বিপদ ॥ করোনা আগামী এক সপ্তাহে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে

প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিল বাড়ছে | স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা নেই মানুষের / ৫০ বার পঠিত
সময়: রবিবার, ৮ আগস্ট, ২০২১, ৯:৫১ পূর্বাহ্ণ

অপূর্ব কুমার ॥ ডেল্টা ধরনের অধিক সংক্রমণ ক্ষমতার কারণে ভয়াবহ আগস্ট অপেক্ষা করছে দেশের মানুষের সামনে। করোনা সংক্রমণ শুরুর পর গত জুলাই ছিল সবচেয়ে কঠিন সময়। সংক্রমণ ও মৃত্যুতে অতীতের সব রেকর্ড ছাপিয়ে গেছে মাসটি। চলতি আগস্ট মাসে প্রতিদিনই মৃত্যুর মিছিলে যোগ হচ্ছে নতুন নতুন মুখ। দীর্ঘ হচ্ছে মৃতের তালিকা। অর্থনীতি সচল রাখতে গত রবিবার থেকে রফতানিমুখী শিল্প কারখানা চালু ও স্বাস্থ্য বিধি মানতে অনীহায় আগামী দিনগুলো হবে আরও ভয়ঙ্কর। কঠোর বিধিনিষেধে শিথিলতা ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ঢিলেঢালা মনোভাবের কারণে আগামী এক সপ্তাহ সবচেয়ে ‘সঙ্কটময়’ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

গত রবিবার থেকে রফতানিমুখী শিল্প কারখানা খুলে দেয়ার কারণে গ্রাম থেকে লাখ লাখ মানুষ স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করে কাজে যোগ দিয়েছেন। ঈদ-উল-আযহার আগে কঠোর বিধিনিষেধ শিথিলের সুযোগে প্রায় এক কোটি মানুষ ঢাকা ছেড়ে যান। এছাড়া পশুর হাটে ও গণপরিবহনে গাদাগাদি করে চলাচল করায় বর্তমানে সংক্রমণ ২৭ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ রয়েছে। তারপরও রাস্তা-ঘাটেও সাধারণ মানুষের মধ্যে চলাচলে গা-ছাড়া ভাব ও মাস্ক না পরার প্রবণতা কমেনি। সেই কারণে চলতি আগস্টকেই বেশি সঙ্কটময় ভাবছে সংশ্লিষ্টরা। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মাকোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডাঃ সায়েদুর রহমান জানান, দেশের মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি ভাঙ্গার প্রতিযোগিতা দেখা যাচ্ছে। সাধারণ মানুষ মাস্ক পরছেন না। আর সামাজিক দূরত্ব মানছেন না। নাক মুখ ও চোখের প্রতিরক্ষা দিলে ভাইরাস যতই শক্তিশালী হোক না কেন তা মানুষকে কাবু করতে পারবে না। তাই সংক্রমণ রোধে মানুষকে আগে নিজেকে সুরক্ষিত রাখতে হবে। নইলে কোনভাবেই সংক্রমণ কমানো যাবে না।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর)-এর প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. এ এস এম আলমগীর হোসেন বলেন, অনেকে কঠোর বিধিনিষেধের ফলে সুফল আসেনি বলে মন্তব্য করে থাকেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো বিধিনিষেধের আগে যেভাবে করোনার সংক্রমণ প্রতিদিন বৃদ্ধি পাচ্ছিল তাতে এটি না দিলে পরিস্থিতি ভয়াবহ হতো। বিধিনিষেধ দেয়ার ফলে অধিকাংশ মানুষ ঘরে থেকেছেন। তিনি আরও বলেন, ডেল্টা ধরনের কারণে বর্তমানে করোনার সংক্রমণ ২৭ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে রয়েছে। তবে গত রবিবার থেকে গার্মেন্টসসহ রফতানিমুখী শিল্প প্রতিষ্ঠান খুলে দেয়ায় যেভাবে সারাদেশ থেকে হাজার হাজার মানুষ ছুটে এসেছেন তাতে আগামী এক সপ্তাহ ক্রিটিক্যাল সময়। এরপর বোঝা যাবে সংক্রমণ পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে।

আলমগীর হোসেন বলেন, দেশের মানুষের অনেকেই মাস্কের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে জানেন না। তারা মাস্ক পরলেও নানা অজুহাতে খুলে থুতনির নিচে বা কানের পাশে ঝুলিয়ে রাখেন। কিন্তু সার্জিক্যাল মাস্ক সব সময়ই পরে থাকা যায়। অনেকে মনে করেন মাস্ক নিজের জন্য পরেন। আসলে মাস্ক অন্যকে রক্ষার জন্যও পরা উচিত।

স্বাস্থ্য অধিদফর সূত্রে জানা গেছে, চলতি আগস্ট মাসের প্রথম ৬ দিনে দেশে মোট ১ হাজার ৪৬৫ জনের মৃত্যু ঘটেছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার একদিনে সর্বোচ্চ ২৬৪ জনের মৃত্যু হয়। গত জুলাই মাসের প্রথম ৬ দিনে মোট ৮৮৯ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ১ আগস্ট ২৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে, ২ আগস্ট ২৪৬ জন, ৩ আগস্ট ২৩৫ জন, ৪ আগস্ট ও ৫ আগস্টে দেশে সর্বোচ্চ ২৬৪ ও শুক্রবার দেশে ২৪৮ জনের মৃত্যু হয়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, গত জুলাই মাসের প্রথম দিনে দেশে ১৪৩ জনের মৃত্যু হয়, পরদিন ২ জুলাই ১৩২ জন, ৩ জুলাইে দেশে ১৩৪ জন, ৪ জুলাই ১৫৩ জন এবং ৫ জুলাই ১৬৪ জন ও ৬ জুলাই ১৬৩ জনের মৃত্যু হয়। ওই মাসের ৬ দিনে দেশে ৮৮৯ জনের মৃত্যু ঘটেছিল। এক মাসের ব্যবধানে দুই মাসের একই সময়ে দেশে মৃত্যু বেড়েছে ৫৭৬ জনের। মাত্র ৬ দিনে এভাবে মৃত্যু হার বেড়ে যাওয়া খুবই আশঙ্কাজনক।

চলতি মাসের প্রথম ৬ দিনে দেশে করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন মোট ৮৫ হাজার ৭৭৬ জন। এর মধ্যে ১ আগস্ট শনাক্ত হয়েছেন ১৪ হাজার ৮৪৪ জন, ২ আগস্ট ১৫ হাজার ৯৮৯, ৩ আগস্ট ১৫ হাজার ৭৭৬, ৪ আগস্ট ১৩ হাজার ৮১৭ জন, ৫ আগস্ট ১২ হাজার ৭৪৪ ও ৬ আগস্ট ১২ হাজার ৬০৬ জন।

একইভাবে গত জুলাই মাসের প্রথম ৬ দিনে শনাক্ত হয়েছিলেন ৫৩ হাজার ১০৮ জন। গত ১ জুলাই মাসের প্রথম দিনে করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন ৮ হাজার ৩০১ জন, ২ জুলাই ৮ হাজার ৪৪৩ জন, ৩ জুলাই ৬ হাজার ২১৪ জন, ৪ জুলাই ৮ হাজার ৬৬১ জন ও ৫ জুলাই ৯ হাজার ৯৬৪ জন ও ৬ জুলাই ১১৫২৫ জন।

গত ১ আগস্টে নমুনা সংগ্রহের বিপরীতে করোনা শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ৯৭ শতাংশ, ২ তারিখে করোনা শনাক্তের হার ২৯.৯১ শতাংশ, ৩ তারিখে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৮.৫৪ শতাংশ, ৪ তারিখে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৭ দশমিক ৯১ শতাংশ ও ৫ তারিখে করোনা শনাক্ত হয়েছে ২৭ দশমিক ১২ শতাংশ। গড়ে প্রতিদিন ২৭ শতাংশের ওপর করোনা শনাক্তের হার ছিল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদন্ড অনুযায়ী, কোন দেশে টানা দুই সপ্তাহের বেশি সময় পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ৫ শতাংশের নিচে থাকলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে ধরা যায়। চলতি মাসে নমুনা সংগ্রহের বিপরীতে করোনা শনাক্তের হার ২৮.৮৯ শতাংশে অবস্থান করেছে। এই গড় হারেই বোঝা যাচ্ছে দেশের করোনা পরিস্থিতি কোন পর্যায়ে রয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডাঃ মোঃ নাজমুল ইসলাম বলেন, স্বাস্থ্য অধিদফতর বরাবরই বলে আসছে জনসমাবেশ উপেক্ষা করে চলাচল করতে। গাদাগাদি করে চলা করোনার সংক্রমণ বাড়িয়ে দিতে সহায়তা করে। আর ডেল্টা ধরনটি বেশি সংক্রামক হওয়ার কারণে ঝুঁকি আরও বেড়ে গেছে। যেভাবে মানুষজন চলাচল করছেন তাতে নিশ্চিতভাবেই বলা যাচ্ছে করোনা সংক্রমণ আগামীতে বাড়বে।

করোনার সংক্রমণ রোধে গঠিত জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য বিএসএমএমইউয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ডাঃ মোঃ নজরুল ইসলাম বলেন, লকডাউন কোন স্থায়ী সমাধান নয়। তাছাড়া প্রকৃত অর্থে লকডাউন বলতে যা বোঝায় সেভাবে পালিত হয় না। সুতরাং যে কোন মূল্যে শতভাগ মানুষকে মাস্ক পরতে বাধ্য করতে হবে।

রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ডাঃ মুসতাক হোসেন বলেন, ডেল্টা ধরনের কারণে সামাজিক সংক্রমণ ও স্বাস্থ্যবিধি না মানার কারণে আগস্টের মাঝামাঝিতে মারাত্মক প্রভাব পড়বে। ওই সময়ে বাড়তে পারে সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যাও। তাই মানুষজনকে শতভাগ মাস্ক পরতে বাধ্য করতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করুন:
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরও সংবাদ

সবর্শেষ পঠিত সংখ্যা

আকার্ইভ বাংলা ক্যালেন্ডার

শনি রবি সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র
 
১০১১১২১৩
১৪১৫১৬১৭১৮১৯২০
২১২২২৩২৪২৫২৬২৭
২৮২৯৩০৩১  

বাংলাদেশের সকল অনলাইন পত্রিকা সমূহ

ফেসবুকে আমরা

আজকের সেহরি ও ইফতারের সময়সূচী

.

সুরক্ষা অনলাইন